রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

বিনিয়োগকারীদের জন্য আসছে অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ সেবা: বাণিজ্যমন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Online-based 'one-stop window' service coming for investors- Commerce Minister
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সমন্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সে লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার (২১ জুন) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন একটি ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের অনুমোদন ও সেবা পাওয়া যাবে। এর ফলে সময়, ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সব ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ এসব স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক যাচাই করতে হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে। তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্য সরকার অস্থায়ী বা ‘প্রভিশনাল লাইসেন্স’ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত তাদের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে একটি রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণের কাজ চলছে। কারণ বিভিন্ন খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্রের ধরন ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে এক নয়।

কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একই সময়ে একত্র করবে। ফলে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার কাছে যেতে হবে না।

বৈঠকে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট প্রমাণ করেছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের পরিবহন খাতকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির আওতায় আনার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিসভারও ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

বৈঠকে জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।

জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী অনলাইনে একটি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেই প্রয়োজনীয় সব সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।”

আরও পড়ুন