সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলা কিউআরে পেমেন্ট ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহকেরা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Bangla QR payment
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআর পেমেন্টে গ্রাহকদের অভিযোগ ও লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নিয়ম আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সময় টাকা পরিশোধ করলে তার হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও লেনদেন ব্যর্থ হওয়ার কারণে মার্চেন্ট বা বিক্রেতা টাকা না পেলে, ইস্যুয়িং ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে অথবা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে ওই টাকা গ্রাহকের হিসাবে ফেরত দিতে হবে। এ জন্য গ্রাহককে আলাদাভাবে কোনো অভিযোগ করতে হবে না।

এ ক্ষেত্রে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান বলতে সেই ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যার মাধ্যমে গ্রাহক পেমেন্ট করেন। আর অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান হলো সেই ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে মার্চেন্ট বা বিক্রেতা পেমেন্ট গ্রহণ করেন।

যেসব লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না, সেসব ক্ষেত্রে লেনদেনের ৪৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ জানাতে পারবেন গ্রাহক। অভিযোগ পাওয়ার পর ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে দাবি গ্রহণ অথবা বাতিল করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবস্থা না নিলে বিষয়টি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর সেন্ট্রালাইজড ডিসপুট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (ডিএমএস) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ‘চার্জব্যাক’ প্রক্রিয়ায় যাবে।

চার্জব্যাক প্রক্রিয়ায় অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে জবাব দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরও বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে বিষয়টি আরবিট্রেশন বা সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এই সালিশ প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

বাংলা কিউআর পেমেন্টে পণ্য না পাওয়া, একই লেনদেনে দুইবার টাকা পরিশোধ, ভুল বিলিং এবং গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হলেও মার্চেন্টের কাছে অর্থ না পৌঁছানোর মতো সমস্যার জন্য আটটি নির্দিষ্ট ‘চার্জব্যাক রিজন কোড’ চালু করা হয়েছে। সব ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অভিন্ন করতেই এসব কোড চালু করা হয়েছে।

এ ছাড়া লেনদেনের অবস্থা নিশ্চিত না হলে নতুন ‘ট্রানজেকশন স্ট্যাটাস ইনকোয়ারি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানের কাছে পেমেন্টের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবে। এতে গ্রাহকদের ম্যানুয়ালি অভিযোগ করার প্রয়োজনীয়তা কমবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাড়ছে প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য মার্চেন্টের আওতা

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতাদের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করতে বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য মার্চেন্টের আওতাও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগে শুধু তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতারা এই সুবিধা পেলেও এখন থেকে ট্রেড লাইসেন্সধারী যেসব মার্চেন্ট এনপিএসবি চ্যানেলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করেন, তারাও নগদ প্রণোদনার আওতায় আসবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেন মূল্যের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে মাসিক নগদ প্রণোদনা পাবে।

তবে মূল প্রজ্ঞাপনে থাকা অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন