মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬

নবীনগরে ডাকাতের কথায় নিরাপরাধ ব্যবসায়ীকে পুলিশের ফাঁসানোর অভিযোগ

সঞ্জয় শীল, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

RisingCumilla - Police accused of framing innocent businessman for robbery in Nabinagar
নবীনগরে ডাকাতের কথায় নিরাপরাধ ব্যবসায়ীকে পুলিশের ফাঁসানোর অভিযোগ/ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার আলীয়াবাদ উত্তর পাড়া নতুন মসজিদ সংলগ্ন ভেন্ডার বাড়ি থেকে নবীনগর বাজারের ব্যবসায়ী মো. কামাল মিয়াকে মো. রাশেক ডাকাতের কথায় বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে জেলা সদরের মেড্ডাস্থ কোকিল ট্যাক্সটাইলের সামনে ডাকাতির অভিযোগে চালান করে জেলা সদর থানা পুুলিশের একটি ইউনিট।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে নিরাপরাধ ব্যবসায়ী মো. কামাল মিয়ার নিশর্ত মুক্তি চেয়ে ও থানা পুলিশের কর্মকান্ডে হতাশা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়, গত ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ গভীর রাতে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের পুলিশের একটি দল মো. কামাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে মো. কামাল মিয়া ও তার স্ত্রী পাপিয়া বেগমকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতদের সাথে সারা রাত নবীনগরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গাড়িতে ঘুরিয়ে পাপিয়া বেগমকে ছেড়ে দিলেও সকালে মো. কামাল মিয়াকে গ্রেফতার দেখায়। পরে মো. কামাল মিয়াকে ডাকাতির অভিযোগে ৪ নং আসামী হিসেবে কারাগারে প্রেরণ করেন।

মো. কামাল মিয়ার বড় ছেলে অপু জানান, আমার আব্বাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেলেও চালান দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা থেকে ধরেছে। সিসিটিভির রেকর্ডও আছে। ডাকাতের কথায় যদি কেউ নিরাপরাধ ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে যায় তাহলে তো যে কাউকে ধরে নিয়ে যাবে।

পাপিয়া বেগম জানান, আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে বাড়িতে এসে হামলা দিয়ে হইচই করে পুলিশ। পরে নবীনগর থানার দুজন পুলিশকে চিনতে পেরে দরজা খুললে তারা আমাদের সকলের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। সারা ঘর তছনছ করে। ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার আলমারি থেকে বের করে আরো স্বর্ণ আছে কিনা জানতে চায়। এ সময় তারা আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। আমাদেরকে নিয়ে রাসেল নামের একজনের খুঁজে গাড়িতে তুলে ইব্রাহিমপুর নিয়ে ঘন্টাখানেক বসিয়ে রাখে। পরে আলীয়াবাদ গোল চত্বরে নবীনগর থানার পুলিশকে নামিয়ে দিলেও আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়।

মো. কামাল মিয়ার ছোট ভাই রুবেল মিয়া জানান, আমার ভাই একজন নির্দোষ মানুষ। আমার ভাইকে কোনো তদন্ত ছাড়াই হয়রানি করে নবীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থানার পুলিশ ডাকাতির অভিযোগে চালান করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা আমার ভাইয়ের নিশর্ত মুক্তি চাই ও আমার ভাইকে যারা হয়রানি করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।

আরও পড়ুন