বৃহস্পতিবার ২ জুলাই, ২০২৬

দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া লাল মাংসের নতুন মুরগি, ৪৫ দিনেই হবে প্রায় ১ কেজি ওজন

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - A new, fast-growing red-meat chicken variety that reaches a weight of approximately 1 kg in just 45 days.
নতুন উদ্ভাবিত মুরগির জাত/ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরা দীর্ঘ ১৫ বছরের গবেষণায় মাংস উৎপাদনের জন্য নতুন একটি মুরগির জাত (উপজাত) উদ্ভাবন করেছেন। দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া এই মুরগি মাত্র ৪৫ দিনেই প্রায় ৯৫০ গ্রাম ওজনে পৌঁছায়। এর মাংস দেশি মুরগির মতো তুলনামূলক শক্ত, লালচে রঙের এবং নিরাপদ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন বাকৃবির পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান মোল্যা। বুধবার গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি নতুন জাতের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ভোক্তাদের উন্নত স্বাদের মাংস এবং খামারিদের অধিক লাভ নিশ্চিত করতেই বিভিন্ন প্যারেন্ট লাইনের সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সোনালি মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার ওজন যেখানে ২৬ থেকে ২৮ গ্রাম, সেখানে নতুন জাতের বাচ্চার ওজন প্রায় ৩৮ গ্রাম। ফলে বাজারজাতের সময় প্রতিটি মুরগিতে গড়ে প্রায় ৫০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজন পাওয়া যায়, যা খামারিদের জন্য বাড়তি লাভের সুযোগ তৈরি করবে।

গবেষণা দল জানায়, বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী করতে নতুন জাতটির সমজাতীয়তা (হোমোজাইগোসিটি) ৮৯ থেকে ৯৩ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে এই মুরগি খামারিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গবেষণা দল গ্রামভিত্তিক নারী খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা ও সময়মতো টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। এতে মুরগির বৃদ্ধি ভালো হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

অনেক খামারি বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত মুরগি পালন করছেন। এতে প্রতি কেজি মুরগি ৭০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করে তারা ভালো লাভ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন গবেষণা দলের প্রধান। তিনি জানান, ঢাকার একটি আধুনিক গবেষণাগারে পরীক্ষায় এই মুরগির মাংসে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি।

নতুন এই জাতকে দেশি মুরগি হিসেবে বাজারজাত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, এটি দেশি মুরগির বিকল্প হিসেবে নয়; বরং উন্নত স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং শতভাগ নিরাপদ লালচে মাংসের একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।

বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, গবেষণাগারে নতুন জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি এর সুফল খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের বন্ধ থাকা বিক্রয়কেন্দ্র দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন, যাতে গবেষণায় উৎপাদিত দুধ, মাংস ও পোলট্রিজাত পণ্য সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়া যায়।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নতুন উদ্ভাবিত এই মুরগির মাংস দিয়ে প্রস্তুত বিভিন্ন খাবার অতিথিদের পরিবেশন করা হয়।

সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন