সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬

চোখের জলে না বলা গল্প শোনালেন ভিনি

রাইজিং স্পোর্টস

RisingCumilla - Vini shared the untold story through tears.
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মিশনে সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই এবং বিশ্বকাপ জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান “দোমিঙ্গাও কম হাক”-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক লুসিয়ানো হাকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভিনিসিয়াস। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করার পর এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে দাদী দোনা নিলজার পাঠানো একটি ভিডিও বার্তা দেখার পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ভিনি।

তিনি বলেন, “আমার দাদী আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ মানুষ। বাবার কাজের কারণে ছোটবেলায় মা ও ভাইবোনদের নিয়ে আমি দাদীর কাছেই বড় হয়েছি। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ওনার সঙ্গেই ছিলাম। আমাদের ছোট্ট ঘরে দিনের পর দিন একই বিছানায় ঘুমিয়েছি। তিনি আমার পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছেন।”

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমি জানি, একদিন আমাদের প্রিয় মানুষরা আর পাশে থাকবেন না। তাই ওনার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমি হৃদয়ে ধরে রাখতে চাই। আমার স্বপ্ন পূরণে তারা নিজেদের সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। আজ ওনাকে হাসতে দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ‘ভিনি জুনিয়র আইন’

ফুটবল মাঠে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কারণে ফিফা সম্প্রতি নতুন একটি নিয়ম চালু করেছে, যা ফুটবল বিশ্বে ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নামে পরিচিত। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে বর্ণবাদী মন্তব্য বা অপমানজনক কথা বললে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে।

এই বিষয়ে ভিনিসিয়াস বলেন, “মাঠের ট্রফির চেয়েও মাঠের বাইরের এই অর্জনগুলো আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আমি আরও বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারি। আমার সাত বছরের একটি ছোট ভাই আছে। আমি চাই না, সে বড় হয়ে বর্ণবাদের শিকার হোক। আমি সেই সব কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে চাই, যাদের আমার মতো কণ্ঠস্বর নেই।”

‘ষষ্ঠ তারকা পেতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে’

২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে দৃঢ় প্রত্যয়ী ভিনিসিয়াস।

তিনি বলেন, “এই প্রজন্ম ব্রাজিলকে আবার বিশ্বসেরার আসনে ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করছে। ব্রাজিলের জার্সিতে ষষ্ঠ তারকাটি যোগ হতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আনচেলত্তি আমাদের স্বাধীনতা ও মানসিক শান্তি দিয়েছেন। দলে নেইমার, ক্যাসেমিরো ও মার্কিনহোসদের মতো অভিজ্ঞরা আছেন বলেই এনড্রিক, রায়ানের মতো তরুণদের পথচলা সহজ হচ্ছে।”

আরও পড়ুন