বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬

চাঁদপুরে মায়ের সামনে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, আটক ১

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Rising Cumilla - Teenager tied to tree and tortured in front of mother in Chandpur
চাঁদপুরে মায়ের সামনে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, আটক ১/ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মো. তারেক ঢালী (১৭) নামে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় তার মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তার মা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণপাড়ার প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত তারেক বর্তমানে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে সফিক প্রধান (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণপাড়ার প্রধানীয়া বাড়ির কয়েকজন তারেককে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে ওই বাড়িতে নিয়ে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে সন্দেহের বশে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

তারেকের মা খুকী বেগমের অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। এরপর দুই ছেলেকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে কোনো কারণ না জানিয়ে সফিক, আল-আমিন, তানিম ও মোতালেব প্রধান তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, প্রধানীয়া বাড়িতে নেওয়ার পর মোবাইল ফোন চুরির কথা বলে তারেককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খুকী বেগম আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ঘটনা ঘটলেও কেউ তাঁর ছেলেকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।

পরে বিকেলের দিকে স্থানীয় সোবহান ঢালী, মো. রাকিব প্রধান, শরীফুল ইসলাম ও নবী উল্লাহ পাটোয়ারী তারেককে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তাঁকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারেকের মা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। টাকার অভাবে ছেলের ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ না করেই মারধরের শিকার হয়েছে। যারা এভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

স্থানীয় নবী উল্লাহ পাটোয়ারী জানান, তারেক ও তাঁর ছোট ভাই মো. রাসেল (১৩) ঢাকায় শহীদুল্লাহ হলের একটি ক্যানটিনে কাজ করেন। ছুটিতে বাড়িতে থাকার সময় তারেককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার পুলিশ তারেকের বাড়িতে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে সফিক প্রধানকে আটক করা হয়।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, সফিক প্রধানকে এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন