
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অতীতে জিপিএ-৫ ও পাসের হার কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে এবার মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও সততার সঙ্গে উত্তরপত্র পরীক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি জানান, এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষার আদলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্রের পূর্ণাঙ্গ পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরো এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুততম সময়ে, সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সময় ও মূল্যবান শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্য দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
পরীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন।
তিনি আরও জানান, এবার ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে মোট পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরীক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এবার অত্যন্ত আনন্দমুখর ও ইতিবাচক পরিবেশে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সাফল্য জাতির জন্য গর্বের। গণমাধ্যমকর্মীদের এসব শিক্ষার্থীর মেধা, সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার গল্প তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি, যাতে তাঁদের সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।
তবে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলকে কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের সামগ্রিক সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, যারা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের প্রতিও সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।










