
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে ফুয়াদ হোসেন (২৪) নামে এক ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে চৌয়ারা বাজার এলাকার মল্লিকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সদর দক্ষিণ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরীফ আহমদ কবির রাইজিং কুমিল্লাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে সদর দক্ষিণ ফায়ার স্টেশনের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে কুমিল্লা ইপিজেড ও কুমিল্লা সদর ফায়ার স্টেশনের আরও দুটি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। রাত ৯টা ৭ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গ্যাস ক্যাসকেড রুমের গ্যাস রিজার্ভারের সেফটি ডিভাইসে লিকেজ থেকে কন্ট্রোল প্যানেলে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে বৈদ্যুতিক বা যান্ত্রিক স্পার্কের মাধ্যমে আগুন ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বাকি সিলিন্ডারগুলো এবং পুরো ফিলিং স্টেশনটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এদিকে আগুন নির্বাপণের পরও ক্যাসকেড রুমের একটি অংশ থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। আগুনের তাপে সিলিন্ডারের কন্ট্রোল হুইল গলে যাওয়ায় রিজার্ভার থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। এতে নতুন করে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও ভলান্টিয়াররা হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে আশপাশের লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। গ্যাস নির্গমন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ধূমপান, বিড়ি-সিগারেট বা কোনো ধরনের খোলা আগুন ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
অগ্নিনির্বাপণের সময় ফায়ার ফাইটার ফুয়াদ হোসেন আহত হলে তাকে সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন।
ঘটনার খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরীফ আহমদ কবির রাইজিং কুমিল্লাকে জানান, ক্যাসকেড রুমে মোট ২৪টি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০টি সিলিন্ডার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি সিলিন্ডারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হওয়ায় প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।










