শুক্রবার ৫ জুন, ২০২৬

কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে প্রাণ গেল ৭ জনের, আক্রান্তদের অধিকাংশ সমকামী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - HIV
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কুমিল্লায় এইডসে আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য অংশ সমকামী পুরুষ ও পুরুষ যৌনকর্মী হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলার এইচআইভি সংক্রমণের হার গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি/এইডস এইচটিসি-এআরটি সেন্টার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান, সর্বশেষ গত ২৫ মে ২১ বছর বয়সী এক বিবাহিত যুবক এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর আগে ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ৮ মে ৩৫ বছর বয়সী আরেকজনের মৃত্যু হয়। তারা সবাই কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দুইজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজনসহ মোট সাতজন এইডসজনিত কারণে মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় ৩৮৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কুমেক এআরটি সেন্টারে ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে চারজন একই সঙ্গে যক্ষ্মা (টিবি) ও এইচআইভিতে আক্রান্ত।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তিনজন বিবাহিত সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন এবং দুজন বিদেশে অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া একজন নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন এবং দুজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। বাকি ছয়জনের তথ্য এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি। গোপনীয়তার স্বার্থে আক্রান্তদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

কুমেক এআরটি সেন্টারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৭৮ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন টিবিতেও আক্রান্ত ছিলেন।

বর্তমানে সেন্টারটিতে মোট ৬১৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এইচআইভি ও এইডসজনিত কারণে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি বছরই সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৯ সালে ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫ জন, ২০২০ সালে ৩১১টি পরীক্ষায় ৮ জন, ২০২১ সালে ৪৯৮টি পরীক্ষায় ১৪ জন, ২০২২ সালে ৭৮৬টি পরীক্ষায় ২১ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ২৩০টি পরীক্ষায় ৪৮ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৮১টি পরীক্ষায় ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মাত্র পাঁচ মাসেই ৬৭২টি পরীক্ষায় ৩৭ জন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় বছরের শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন