
কুমিল্লা নগরীতে যুবদল নেতা আবু কাউছার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল ঘাতকসহ দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর নুরপুর এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত তৌহিদকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে তার বড় ভাই তানজিরকেও গ্রেফতার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার জানান, কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ছত্রখিল এলাকার উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জমি নিয়ে তানজির ও তৌহিদ দুই ভাইয়ের সঙ্গে নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকার যুবদল নেতা আবু কাউছার ও তার বন্ধু শামীমের বিরোধ চলছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ওই জমিতে তৌহিদ ও তানজিরের লোকজন কফি শপ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় কাউছার ও শামীম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তৌহিদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারকে গুরুতর জখম করেন। এ সময় হামলাকারীদের অন্য সহযোগীরাও তাকে মারধর করেন। হামলায় এক অটোরিকশাচালকও আহত হন।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কাউছারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হামলার দিন সকালে তৌহিদ তার বড় ভাই তানজিরকে ফোন করে দেশীয় অস্ত্রসহ আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। বাধার মুখে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তৌহিদের বিরুদ্ধে এর আগে হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলা এবং তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন অথবা তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










