শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অপরাধ?’—ছেলেকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি

রাইজিং ক্যাম্পাস

RisingCumilla - I came to Comilla for a job—is that my crime— A mothers lament after losing her son.
‘কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অপরাধ?’—ছেলেকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি

কুমিল্লায় নিখোঁজের একদিন পর ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে।

ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে বাসায় আহাজারি করতে করতে অপ্রতীমের মা বলেন, ‘কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি—এটা কি আমার অপরাধ? আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো। আমি এর জবাব চাই। আমি এখন কেমনে বাঁচব।’

মরদেহ উদ্ধারের পর অপ্রতীমের মা-বাবাকে সমবেদনা জানাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের বাসায় ছুটে যান। এ সময় বাবা-মায়ের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অপ্রতীমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় অপ্রতীমের মা তাকে বলেন, ‘আমার একটি মাত্র ছেলে। তাকে কেন এভাবে হত্যা করা হলো?’

এ বিষয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ এলাকার এমপি হিসেবে লজ্জিত ও দুঃখিত। একজন মাসুম বাচ্চাকে রক্ষা করতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ৯০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার বিচার শেষ করতে হবে।’

এ ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে তুহিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তার বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তিনি নুরুল আলমের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক মহিবুল আলম ভুঁইয়া।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে একজন ব্যক্তি আছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমি এখান থেকে যাওয়ার পরে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব, তদন্ত করব এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে না ধরা পর্যন্ত আমরা ননস্টপ এটা নিয়ে কাজ করব।’

এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শনিবার দুপুরে লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরও পড়ুন-

নিখোঁজের একদিন পর জঙ্গলে পাওয়া গেল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলের মরদেহ

আরও পড়ুন