বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একই দাগে খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নামজারির নির্দেশ

বাসস

Rising Cumilla - Directive to demarcate the boundaries of Khas land within the same plot and proceed with the mutation of privately owned land.
একই দাগে খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নামজারির নির্দেশ

একই দাগের জমির একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্য অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোনো দাগের আংশিক ভূমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং আংশিক ভূমি খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট থাকা অবস্থায় পুরো দাগের ভিত্তিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

পরিপত্রে বলা হয়, এক বা একাধিক দাগে খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি একত্রে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন।

এক্ষেত্রে সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করতে হবে।

একই সঙ্গে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির পৃথকীকরণ সরেজমিনে ও বাস্তবভিত্তিকভাবে করতে হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, নামজারির আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার আওতাধীন কানুনগো বা সার্ভেয়ারকে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করাবেন।

এসময় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করে যৌথ স্বাক্ষরিত খসড়া নকশা প্রস্তুত করতে হবে।

প্রয়োজনে শুনানি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা ও দলিলপত্র পর্যালোচনা করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নামজারি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি পৃথকীকরণ করা হলে এ জন্য আলাদা কোনো কেস নথি তৈরির প্রয়োজন হবে না। নামজারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ পৃথকীকরণ সম্পন্ন করতে হবে।

তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথকীকরণের প্রয়োজন হলে আলাদা কেস নথি তৈরি করতে হবে।

ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি করা হলেও সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশের ওপর নামজারির মাধ্যমে কোনো স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না। সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ নামজারির আওতার বাইরে থাকবে।

এছাড়া সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামে সংশ্লিষ্ট দাগের জমির মধ্যে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ রয়েছে এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের জন্য নামজারি অনুমোদন করা হয়েছে, এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে অথবা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালতের আদেশের মাধ্যমে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে প্রচলিত আইন ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা নতুন ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে দেওয়া এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন