
কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্র্যাক অফিস থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তাটি বর্তমানে ওই এলাকার সবচেয়ে অবহেলিত এবং জরাজীর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় সড়কটি এখন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে চলার মতো কোনো পরিস্থিতি থাকে না।
কাঁদা আর পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অথচ এই রাস্তা ব্যবহার করেই প্রতিদিন এলাকার শত শত কর্মজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ যাতায়াত করেন।
সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয় যখন কোনো মানুষ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে মুমূর্ষু রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে ডাক্তার বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উপায় থাকে না। খানাখন্দ আর কাদার কারণে জরুরি প্রয়োজনে কোনো রিক্সা, সিএনজি বা অ্যাম্বুলেন্স এই এলাকায় আসতে চায় না।
ভুক্তভোগী এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবা অত্যন্ত অসুস্থ, ওনাকে প্রায়ই জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে নিতে হয়। কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা, কোনো গাড়ি ভেতরে আসতে রাজি হয় না। চরম ঝুঁকি ও কষ্ট নিয়ে ওনাকে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে হয়। একটা জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা কতটা অসহায়, তা বলে বোঝানো যাবে না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে সরকারি দল, বিএনপি কিংবা জামায়াত ইসলামীর অনেক বড় বড় নেতা রয়েছেন, যারা নিজেদের ‘উপর মহলে’ দারুণ প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেন।
কিন্তু নির্বাচনের সময় বড় বড় আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত এই রাস্তার কোনো উন্নয়ন দেখেননি স্থানীয়রা। বরং দিন দিন রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের এই চরম ভোগান্তি নিরসনে কোনো নেতারই বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বা সদিচ্ছা দেখা যায়নি।
রাস্তাটির এই জরাজীর্ণ দশার কারণে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে। তারা আর কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি চান না। অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অনতিবিলম্বে রাস্তাটি পাকা বা সংস্কার করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী জনসাধারণ।










