
অতীতের সব ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, মানসম্মত, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের পাঠ্যবইয়ে অসংখ্য বানান ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি বই শতভাগ নির্ভুল ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়।
তিনি বলেন, “অতীতের সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে এবার শতভাগ নির্ভুল বই তৈরি করা হচ্ছে। বইয়ের কাগজ, ছাপার মান কিংবা বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, নতুন বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের অলংকরণ এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে তা শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ায়। ছবি হবে প্রাণবন্ত এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে বোধগম্য।
মন্ত্রী জানান, চারটি নতুন বইয়ের পান্ডুলিপি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক অংশ নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিগুলো আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেবে। এরপরই চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৭ সালের বই প্রকাশের কাজ শেষ হওয়ার পরই ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত কারিকুলাম ও নতুন পাঠ্যবই প্রস্তুতের কাজ আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। এতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে মানসম্মত বই প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আধুনিক, আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










