রবিবার ৪ অক্টোবর, ২০২৬

‎১৮ মাসের কাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি, হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল মসজিদে ধীরগতি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Work scheduled for 18 months remains unfinished even after 7 years, progress at Habiganjs Bahubal Model Mosque is sluggish.
‎১৮ মাসের কাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি, হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল মসজিদে ধীরগতি

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদরে সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি। ২০১৯ সালের জুনে কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে মেসার্স মঈন উদ্দিন এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছিল।

ব্রাম্মনবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত প্রকল্পের কাজের গুনগত মান ও নির্মান সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে প্রথমেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। ২০২৭ সালের মধ্যে হস্তান্তর করার কথা শোনা গেলেও কাজের গতি নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কার্যাদেশের চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে মসজিদটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মঈনউদ্দীন এন্টারপ্রাইজ তা রক্ষা করতে পারেনি। ধীরগতির মাধ্যমে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০ ভাগ কাজ করতে সক্ষম হয় অত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপরে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে চলে যায় তারা। পরবর্তীতে রি-টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ নেন হেমায়েত হোসেন নামের জনৈক ঠিকাদার।

‎নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকা, প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান ও তদারকির বিষয়ে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ কাজের গতি কিছুটা শ্লো আছে স্বীকার করে বলেন, কিছুদিন বন্ধ থাকার পর কাজ পুনরায় ২০২৪ সালে শুরু হয় এবং ২০২৭ সালের মার্চ মাসে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান। এর আগে কি কারণে কাজ বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে সঠিকভাবে তদারকি হচ্ছে কি না এ বিষয়ে প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি তিন-চার মাস। বিস্তারিত না জেনে বলা সম্ভব না’।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষেত্রে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। প্রতিটি ধাপে প্রকৌশলীদের উপস্থিতি, উপকরণের মান পরীক্ষা এবং কাজের পরিমাপ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা প্রয়োজন।‎

‎তাদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজের সময় ও মান নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ভবিষ্যতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

‎কাজের মান ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোঃ হেমায়েত হোসেন বলেন, তারা দুজন যৌথভাবে প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু শ্রমিক ছুটিতে ছিলেন। কয়েকজন ইতোমধ্যে এসেছেন এবং অন্য শ্রমিকরাও ফিরে এলে পুনরায় পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

‎হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পের অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কোন কোন মসজিদে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন। অথচ বাহুবল উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চললেও কার্যাদেশ অনুযায়ী হস্তান্তর প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন