
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আকস্মিক মৃত্যুর পর এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার, কারাবাস, আইনি লড়াই এবং সামাজিকভাবে নানা সমালোচনা—সব মিলিয়ে ২০২০ সালের পর তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়।
সম্প্রতি দীর্ঘ সময় পর একটি জনপ্রিয় ইউটিউব ব্লগে হাজির হয়ে সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভের কথা খোলামেলা জানিয়েছেন রিয়া।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিয়া জানান, ২০২০ সালে মাদক সংক্রান্ত মামলায় তাকে এবং তার ভাই শৌভিক চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের জীবন পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে যায়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা তাদের জন্য সহজ ছিল না। চারপাশের মানুষের আচরণ এবং সামাজিক বয়কট তাদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রলিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে রিয়া বলেন, ‘দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ সম্ভবত আমিই। আপনারা সবাই জানেন এর পেছনে কী কারণ রয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, এসব অভিজ্ঞতার পর কাউকে সহজে বিশ্বাস করা বা নিজের ওপর অন্যের প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছে।
তবে প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি রিয়া ও তার ভাই শৌভিক। বিনোদন জগৎ ও করপোরেট দুনিয়ায় কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার পর তারা নিজেদের উদ্যোগে নতুনভাবে পথচলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ভাবনা থেকেই শুরু করেন যৌথ চ্যাট শো ‘চ্যাপ্টার টু’।
রিয়ার ভাষায়, কারাগারের অন্ধকার সময় পেরিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে আবার কোনো নতুন বিপর্যয় নেমে আসার ভয় এখনও কাজ করে তার মধ্যে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষ করে সিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানা গেছে। এর পরই রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রিয়ার এই বক্তব্যে তার জীবনের সেই কঠিন সময়, সামাজিক চাপ এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামের একটি ভিন্ন দিক সামনে এসেছে।
সূত্র: পিটিসি পাঞ্জাব











