
দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল, শোবার আগে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো ভালো ঘুমের সবচেয়ে বড় বাধা। তবে সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা সেই ধারণাকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ করে দিয়েছে।
গবেষকদের মতে, ঘুমের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে স্ক্রিনের আলো নয়, বরং শোবার আগে ফোনে দেখা কনটেন্ট ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অভ্যাস।
প্রায় এক দশক আগে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, ঘুমানোর আগে আইপ্যাড ব্যবহার করলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় এবং ঘুম আসতে দেরি হয়। তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেমি জেইটজারের মতে, সেই গবেষণা নিয়ন্ত্রিত ল্যাব পরিবেশে পরিচালিত হয়েছিল, যা বাস্তব জীবনের ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের চোখের ‘মেলানোপসিন’ নামের একটি প্রোটিন নীল আলোর প্রতি সংবেদনশীল হলেও স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত আলোর মাত্রা ঘুমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলার মতো শক্তিশালী নয়।
সম্প্রতি ১১টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আলো সর্বোচ্চ গড়ে মাত্র ৯ মিনিট পর্যন্ত ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দৈনন্দিন জীবনে খুব বড় কোনো প্রভাব নয়।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাইরে মাত্র এক মিনিট সূর্যের আলোয় থাকলে মানুষ যে পরিমাণ নীল আলোর সংস্পর্শে আসে, একই পরিমাণ আলো পেতে একটি স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতে হবে। এমনকি মেঘলা দিনেও বাইরের আলোর তীব্রতা প্রায় ১০ হাজার লাক্স, যেখানে অধিকাংশ স্মার্টফোনের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা থাকে মাত্র ৫০ থেকে ৮০ লাক্স।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো শোবার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘক্ষণ স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্টে সময় কাটানো। এসব কার্যক্রম মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও সজাগ রাখে, যার ফলে সহজে ঘুম আসে না।
ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- সকালে ঘুম থেকে উঠে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটান।
- বিকেল ৩টার পর অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- দিনের বেলা ঘর উজ্জ্বল রাখুন এবং রাতে ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে দিন, যাতে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
- শোবার অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমিয়ে বই পড়া বা শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।
গবেষকদের মতে, শুধু নীল আলোর ফিল্টার ব্যবহার করলেই ভালো ঘুম নিশ্চিত হবে না। বরং সারাদিন পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ, নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি অনুসরণ এবং শোবার আগে মানসিকভাবে শান্ত থাকা—এসবই সুস্থ ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি










