শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নীতিতে আনছে ব্যাপক পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Rising Cumilla -United Kingdom
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নীতিতে আনছে ব্যাপক পরিবর্তন/ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের বিশেষ সুরক্ষা ও বিভিন্ন সুবিধায় বড় ধরনের কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর ফলে বহু বছর ধরে চলে আসা ‘গোল্ডেন টিকিট’ সুবিধা বন্ধ হচ্ছে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা কমছে অর্ধেকের বেশি। ডেনমার্ক মডেল অনুসরণে নেওয়া এই কঠোর পরিকল্পনাকে অভিবাসন ইস্যুতে তীব্র চাপে থাকা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসন কমানো এবং ডানপন্থি রাজনীতির ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলাই এই নীতিগত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা বাড়ার মুখে শনিবার রাতে স্টারমার সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করে।

নতুন নিয়মে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতির সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে ৩০ মাস করা হবে এবং এই সময়ের মধ্যে তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। পরিস্থিতি ‘নিরাপদ’ মনে হলে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

এছাড়াও, যাদের আশ্রয় দেওয়া হবে, তাদের যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের আবেদন করার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০ বছর, যা বর্তমান নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদ বলেন, “আমি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষ সুবিধার অবসান ঘটাব।” তার দপ্তর হোম অফিস এই প্রস্তাবকে “আধুনিক যুগে আশ্রয় নীতির সবচেয়ে বড় সংস্কার” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত সোমবার পার্লামেন্টে তুলে ধরবেন।

বর্তমানে ব্রিটেনে আশ্রয় দাবির হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে অভিবাসন এখন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

শেষ এক বছরে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৩ জন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি এবং ২০০২ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছে ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষ, যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের সংখ্যার চেয়েও বেশি।

হোম অফিস মনে করছে, নতুন নীতিগুলো অনিয়মিত অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যকে কম আকর্ষণীয় করবে এবং যাদের ফেরত পাঠানো প্রয়োজন, তা সহজ হবে।

এছাড়াও, ২০০৫ সালের আইনে আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিও বাতিল করা হবে। এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের বাসস্থান বা নিয়মিত ভাতা পাওয়ার আর নিশ্চয়তা থাকছে না। সরকার চাইলে সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারবে—বিশেষত যাদের সক্ষম মনে হবে বা অপরাধে জড়িত থাকবে তাদের জন্য।

যুক্তরাজ্যের রিফিউজি কাউন্সিল সরকারে এই নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অভিবাসনে এই ধরনের কড়াকড়ি মানুষকে দেশটিতে পৌঁছানোর চেষ্টায় নিরুৎসাহিত করবে না। বরং সরকারের উচিত নীতি পুনর্বিবেচনা করা।

রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান এনভার সলোমন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যেসব শরণার্থী কঠোর পরিশ্রম করে ব্রিটেনের জন্য অবদান রাখেন, তাদের যেন এখানে স্থায়ী ও নিরাপদ জীবন গড়ার সুযোগ দেওয়া হয়।”

আরও পড়ুন