মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় চাচা-চাচি আহত

শরিফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় চাচা-চাচি আহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় চাচা-চাচি আহত। ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে আপন চাচা ও চাচির ওপর হামলা, লুটপাট এবং উল্টো তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. আনাছ খানের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের নিকট এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এনায়েত খান খোকন ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তার নিপা।

ভুক্তভোগী এনায়েত খান খোকন জানান, প্রায় দুই বছর আগে তিনি তার আপন ভাই মো. এবাদত খানকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন, যার প্রমাণ হিসেবে একটি ব্যাংক চেকও রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো এবাদত খান ও তার ছেলে আনাছ খান তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভয়ভীতি দেখান।

এনায়েত খান বলেন, “আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করেছি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে টাকা ফেরত চাইতে গেলে আনাছ খান দলবল নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আমার স্ত্রীর স্বর্ণের চেইন ও হাতের ব্যাচলাইট ছিনিয়ে নেয় তারা।”

তিনি আরও দাবি করেন, আনাছ খান চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন, তবে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি যুবদলের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি পদ লাভ করেন এবং এরপর থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

এনায়েত খানের স্ত্রী শামীমা আক্তার নিপা বলেন, “আমাদের ওপর দলবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এরপর আবার উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, যা কোনো তদন্ত ছাড়াই রেকর্ড করেছে পুলিশ। এখন কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ ঘটনায় এনায়েত খানের ভাই মনির খান বলেন, “আনাছ আমারই আপন ভাতিজা এবং এনায়েত আমার আপন ভাই। হামলার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম না, তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছি। আনাছ রাজনৈতিক ক্ষমতা নাকি অন্য কোনো ক্ষমতাবলে আপন চাচা-চাচির ওপর হামলা চালিয়েছে, তা আমার বোধগম্য নয়।”

আনাছ এর রাজনীতির প্রসঙ্গে প্রশ্নে তিনি বলেন, “সে আগে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলো এটা সত্য। ৫ ই আগস্টের পরে কে বা কাদের সহযোগিতা’য় যুবদলের ওয়ার্ড সভাপতি হলো তাও আমার বোধগম্য নয়।”

অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা আনাছ খান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “প্রথমে এনায়েত খানই লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এতে আমি ও আমার ভাই আহত হয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি দলের প্রভাব খাটিয়ে আমার বাবার সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নিয়েছেন। হামলার ঘটনায় আমি সরাইল থানায় মামলা করেছি এবং আমি ন্যায়বিচার চাই।”

তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বহু আগ থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং কেউ পারলে প্রমাণ করে দেখাক।

আরও পড়ুন