সোমবার ৬ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে হলান্ড বললেন—নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি স্মরণীয় রাত

রাইজিং স্পোর্টস

Rising Cumilla - After beating Brazil, Haaland said—this is the craziest night in the history of Norwegian football.
ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে/ছবি: গেটি ইমেজেস

সুযোগ পেলেই গোল—এই পরিচিত সত্যটি আবারও প্রমাণ করলেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাওয়া দুটি সুযোগই নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। 

অপরদিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

ম্যাচ শেষে নিজের গোল করার সহজাত দক্ষতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হলান্ড বলেন, সাধারণত একটি বা দুটি সুযোগ পেলেই তিনি সেগুলো গোলে পরিণত করতে পারেন। কীভাবে তা সম্ভব হয়, সেটি নিজেও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারেন না। তবে তার মতে, প্রতিটি মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখাই একজন স্ট্রাইকারের সবচেয়ে বড় শক্তি।

এই জয়কে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল শেষ ষোলো পর্যন্ত ওঠা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সরাসরি শেষ আটে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।

হলান্ড বলেন, এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পাগলাটে এবং অবিশ্বাস্য রাতগুলোর একটি। তার আশা, এই অর্জন দেশের ফুটবলে নতুন এক পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতিরও প্রশংসা করেন নরওয়ের এই তারকা ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ব্রাজিলের মতো দেশের হয়ে খেলাকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখার মানসিকতা নরওয়ের ফুটবলেও গড়ে উঠতে হবে। দেশের প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন হওয়া উচিত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট হলান্ড। তার ভাষায়, নরওয়ের খেলোয়াড়রা কোনো ভয় না পেয়ে সাহসিকতার সঙ্গে খেলেছেন এবং মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, বড় হয়ে নরওয়ের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখাই হওয়া উচিত তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পরই সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং’ উদযাপনে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ব্রাজিলকে হারানোর পরও গ্যালারিতে দীর্ঘ সময় ধরে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নেন হালান্ড ও অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডসহ সতীর্থরা।

তবে দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন হলান্ড। তিনি বলেন, যদি এখন নরওয়ের রাস্তায় সমর্থকদের সঙ্গে থাকতে পারতেন, তবে সেই উদযাপনে নিজেও শামিল হতেন। দেশবাসীর প্রতি তার আহ্বান, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রাণভরে উপভোগ করার। তার বিশ্বাস, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন