
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করেন ইশরাক। এ সময় তার সমর্থকেরা ‘রাজপথের ইশরাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘রাজপথের ইশরাক ভাই, তোমার কোনো ভয় নাই’ এবং ‘ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, নিজের নিরাপত্তার জন্যই সেদিন অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম আংশিক সত্য ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব সংবাদে তিনি অসম্মানিত হয়েছেন এবং তার দল বিব্রত হয়েছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট বয়ান তৈরির মাধ্যমে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে।
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে আরও জোরালোভাবে কাজ করার কথা জানান তিনি। ইশরাক বলেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’
এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মাদক নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’
এর আগে সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’
ওই পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে যেন তারা সেই আন্দোলনে যোগ দেন।
এর আগে রোববার রাতে ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।










