মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

পুলিশের তৎপরতায় জার্মান পর্যটক ফিরে পেলেন হারানো ল্যাপটপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - German tourist recovers lost laptop thanks to police efforts.
পুলিশের তৎপরতায় জার্মান পর্যটক ফিরে পেলেন হারানো ল্যাপটপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে হারিয়ে যাওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবারের (Kirill Lander-Weber) ম্যাকবুক উদ্ধার করে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ পাওয়ার পর বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে নাটোর সদর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান পর্যটকের হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন আইজিপি। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

এ সময় স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে নিজের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ওই পর্যটক। ফিরে এসে সেগুলো না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রমের তথ্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল।

তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ম্যাকবুকটি উদ্ধার করা হয়।

ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণকালে নিজের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দেন আইজিপি।

এ সময় আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা, জনসাধারণের আস্থা অর্জন, পর্যটকবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন