বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬

দেশের মৎস্যখাতের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - There is no alternative to research and innovation to develop the country's fisheries sector- Livestock Minister
ছবি: সংগৃহীত

দেশকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের সত্যিকার অর্থে মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, গবেষকদের এমন গবেষণা করতে হবে যা বিদ্যমান বৈশ্বিক গবেষণা থেকে স্বতন্ত্র, নতুন এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্যখাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন, সরকার তাদের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষভাবে সম্মানিত করবে।

বুধবার (১৭ জুন) মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার গুণীজন, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে চায়। নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিকাশে তাদের ভূমিকার দিকে প্রত্যাশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে দেশ।

আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখনো গবেষণার একটি সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্র ধারা গড়ে ওঠেনি। গবেষণার দৃশ্যমান ফলাফল এবং নিজস্ব গবেষণা-ধারা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।

পানির গুণগত মানকে মাছ চাষের অন্যতম প্রধান নিয়ামক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানিকে মাছের উপযোগী করে তুলতে পারলে রোগবালাই অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য বিজ্ঞানী ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিঠাপানির মাছকে রোগমুক্ত ও টেকসইভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মড়ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও মাছের খামারে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরকে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ওয়ার্কশপে প্রকল্পের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সিরাজুম মনির। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, মৎস্য বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন