
কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লার জনজীবন। ভোরের আলো ফোটার আগেই কুমিল্লার বাতাসে শীতের তীক্ষ্ণ ছোবল অনুভূত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। শহরের ব্যস্ত এলাকায় যেখানে মানুষ কোট ও সোয়েটারে নিজেদের ঢেকে নিচ্ছেন, সেখানে ফুটপাতে থাকা মানুষগুলো পুরনো কাপড়, পলিথিন কিংবা বস্তা গায়ে জড়িয়ে ঠাণ্ডা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) কুমিল্লায় শীত যেন আরও বেড়েছে। আজ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই কুমিল্লাবাসীকে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত পোশাক ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।
কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বসবাসরত ছিন্নমূল মানুষেরা জানান, শীতের কারণে হাত-পা অবশ হয়ে যায়। তাই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে হয়।
রিকশাচালক শরিফ মিয়া বলেন, “রিকশা নিয়ে বের হলেও দু-একটির বেশি ভাড়া পাওয়া যায় না। তীব্র শীতে শরীর যেন বরফের মতো হয়ে যায়। তবুও সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়।”
অন্যদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি ও জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
সচেতন মহল শীত মোকাবিলায় বিশেষ করে দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে রাত ও ভোরে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে কুয়াশা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বুধবার সকাল ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার জেলাসহ রাজশাহীর ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলা, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
শনিবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ দিনও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ দিন সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।
এছাড়া বুধবার সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয়—৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।










