বুধবার ১০ জুন, ২০২৬

দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টি—কেমন থাকবে আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া?

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - weather
ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা)। ইতোমধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটেছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি দেশের অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচ দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এ পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনপটিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি দেশের বাকি অংশেও পুরোপুরি বিস্তার লাভ করবে। ফলে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।

আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

প্রথম দিন (১০ জুন)

রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সারা দেশে সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় দিন (১১ জুন)

রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

তৃতীয় দিন (১২ জুন)

আগের দিনের তুলনায় রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা অব্যাহত থাকবে।

এদিন দিনের তাপমাত্রা সারা দেশে সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

চতুর্থ দিন (১৩ জুন)

বৃষ্টিপাতের ধরন ও বিস্তৃতি আগের দিনের মতোই থাকতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

পঞ্চম দিন (১৪ জুন)

রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

এই দিনে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার চিত্র

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উপকূলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়, যেখানে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া চাঁদপুরে ৬৭ মিলিমিটার, সিলেটে ৫৮ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রেকর্ড করা হয়েছে ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁর বদলগাছী এবং নোয়াখালীর রামগতিতে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বর্ষার প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের সব অঞ্চলে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন