মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ৩ মাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যাওয়া হবে বাড়ি বাড়ি

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Three-month cleanliness drive to tackle dengue risk, door-to-door visits planned.
ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ৩ মাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যাওয়া হবে বাড়ি বাড়ি/ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে দেশজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রতি শনিবার বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা।

আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা।

মাঠপর্যায়ের এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহানগর এলাকায় কর্মসূচির সমন্বয় করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন। জেলা পর্যায়ে তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসকেরা। উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি সমন্বয় করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), রোভার স্কাউট এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা অংশ নেবেন। এর সঙ্গে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন