মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের খসড়া: বিরক্তিকর কল, অশ্লীল বার্তা ও আড়ি পাতায় জেল-জরিমানা

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশের একটি খসড়া প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাধারণ নাগরিকদের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছে। নাগরিকরা আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের সুচিন্তিত মতামত জানাতে পারবেন।

এই নতুন খসড়া অধ্যাদেশে টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

টেলিফোনে বিরক্ত করা ও অশ্লীল বার্তা পাঠানোয় কঠোরতা

নতুন খসড়া অধ্যাদেশে ফোন ব্যবহার সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:

অধ্যাদেশের ধারা ৭০-এ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে বারবার ফোন করেন যা ওই ব্যক্তির জন্য বিরক্তিকর বা অসুবিধার সৃষ্টি করে, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ধারা ৬৯ অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বা বেতার যন্ত্রপাতির সাহায্যে কোনো অশ্লীল, ভীতি প্রদর্শনমূলক বা গুরুতরভাবে অপমানকর কোনো বার্তা, ছবি বা ছায়াছবি পাঠালে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    • এই অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট যন্ত্র পরিচালনাকারী ব্যক্তি, প্রেরক বা ক্ষেত্রবিশেষে উভয়ই অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক দেড় কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
    • আইনের দফা (গ)-এর ক্ষেত্রে প্রেরণকারী অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
    • প্রয়োজনে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও প্রযোজ্য হবে।

বেআইনিভাবে আড়ি পাতা ও নজরদারি

খসড়ায় বেআইনিভাবে আড়ি পাতার বিরুদ্ধেও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দেড় কোটি টাকা জরিমানা কিংবা উভয় সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও ইন্টারনেট সেবায় সরকারের অনুমোদন

খসড়া অধ্যাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

  • ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা, যেমন—ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মেসেজিং ও ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ—সবই এখন থেকে সরকারের অনুমোদনের আওতায় আসবে।
  • এসব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধন নিতে হবে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
  • অনুমতিহীনভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনা বা বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

 জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্ল্যাটফর্ম বন্ধের ক্ষমতা

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো প্ল্যাটফর্ম স্থগিত বা বন্ধ করতে পারবে।

স্বাধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন গঠন

খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই খাতে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশন লাইসেন্স প্রদান, নীতিনির্ধারণ, স্পেকট্রাম বণ্টন ও প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণ করবে। কমিশন হবে পাঁচ সদস্যের, যার একজন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন।

 মতামত জানাবেন যেভাবে:

খসড়া অধ্যাদেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সাধারণ নাগরিকরা আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের মতামত জানাতে পারবেন।

  • ই-মেইল: [email protected]
  • ডাকযোগে: সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
আরও পড়ুন