বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলার প্রায় ৫২ লাখ মানুষকে কলেরা টিকা দেবে সরকার

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - The government will administer cholera vaccines to approximately 5.2 million people across 14 high-risk upazilas.
ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলার প্রায় ৫২ লাখ মানুষকে কলেরা টিকা দেবে সরকার

সারা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় শুরু হচ্ছে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হবে।

এ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে কলেরার টিকা খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক এ টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত নন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন অডিটরিয়ামে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে এ টিকা খাওয়ানো হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সব টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মশার প্রজননক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফলতা এসেছে। ঢাকা শহরের মানুষও এবার মশার আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকার কথা বলছেন। তবে মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। সামনে এখনো তিনটি মাস রয়েছে।

পিরোজপুরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি এক জুম বৈঠকে জেলার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। এর অন্যতম কারণ জমে থাকা পানিতে বিপুলসংখ্যক মশার লার্ভার উপস্থিতি। তাই স্থানীয় পর্যায়ে জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ডিএসসিসির লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই চার থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও থানা এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, গতবারের তুলনায় এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম রয়েছে। জরিপের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে ডেঙ্গু অনেকাংশে কমে এসেছে।

নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন থাকতে হবে।

প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডিএসসিসির। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানির সরবরাহ, উন্নত স্যানিটেশন, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে কলেরা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন