
চিকিৎসক সংকটসহ নানা কারণে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকা চাঁদপুরের শতবর্ষী ঐতিহাসিক ‘দুই টাকার দাতব্য চিকিৎসালয়’ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীভাঙনকবলিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বল্পখরচে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুর পৌরসভা।
গত রোববার বিকেলে পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয়টি পরিদর্শন করেন চাঁদপুর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এরশাদ উদ্দিন। এ সময় তিনি চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানান।
পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, কিছু সমস্যার কারণে পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয়ের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। আবার চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পুরানবাজারের পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডের মানুষ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।
তিনি বলেন, পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আপাতত পাশেই অস্থায়ী স্থাপনায় চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। পরবর্তীতে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে আরও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, শুধু নামমাত্র চিকিৎসালয় চালু করে থেমে থাকতে চায় না পৌরসভা। নতুন করে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিন একজন চিকিৎসক যাতে এখানে রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হবে। পাশাপাশি পৌরসভার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে কিছু ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর আজম বলেন, অস্থায়ী স্থাপনাটি প্রস্তুত হওয়ার পরই চিকিৎসালয়ের কার্যক্রম আবার শুরু হবে। এতে পুরানবাজারের শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
জানা গেছে, ১৯২০ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই চিকিৎসালয়টি টানা ১০৫ বছর ধরে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। মাত্র দুই টাকার টিকিটে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হতো। এ কারণেই স্থানীয়দের কাছে এটি ‘দুই টাকার চিকিৎসালয়’ নামে পরিচিতি পায়।
চিকিৎসালয়টি মূলত চাঁদপুরের পুরানবাজার ও আশপাশের এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যয় বহনে অক্ষম দরিদ্র মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানটি ছিল দীর্ঘদিনের ভরসার জায়গা।
২০২৫ সালে পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে চিকিৎসালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পুরোনো ভবনের পাশেই অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে চিকিৎসালয়টিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।









