বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla -Medicine
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণ বিষয়ে ১৯৯৪ সালে জারি করা সরকারের ক্ষমতা সীমিতকরণ সংক্রান্ত সার্কুলারটিকে অবৈধ ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে দেশের বাজারে বিদ্যমান জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধের দাম সরকারকেই নির্ধারণ করার ঐতিহাসিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ, সোমবার (২৪ নভেম্বর), চলতি বছরের ২৫ আগস্ট ঘোষিত এই গুরুত্বপূর্ণ রায়টি প্রকাশ করেছেন।

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ১৯৮২ সালের ওষুধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, যা বর্তমানে ওষুধ ও কসমেটিক্স আইন, ২০২৩ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেই বিধান অনুযায়ী ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের পূর্ণ এখতিয়ার সরকারের হাতেই।

কিন্তু, ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা বিতর্কিত সার্কুলারে সরকার কেবলমাত্র ১১৭টি ওষুধ ছাড়া বাকি সব ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়। আদালত স্পষ্ট জানান, সরকারের ক্ষমতা সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত ওই সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি যুক্তি দেন, ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণহীনতা সরাসরি নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকারের (মৌলিক অধিকার) সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে সরকারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সীমিত করার ওই সার্কুলারটি ছিল মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।

এই রায়ের ফলে এখন থেকে সরকার কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যক নয়, বরং জনস্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী সব জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

আরও পড়ুন