মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে কীভাবে ঢাবি ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে আন্দোলন করেছেন—জানালেন আমজনতা দলের তারেক

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - How did you, as a student of Comilla University, manage to enter the Dhaka University Chhatra Leagues den to stage a protest—asks Tareq of the ‘Aam Janata Dal
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে কীভাবে ঢাবি ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে আন্দোলন করেছেন—জানালেন আমজনতা দলের তারেক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রভাবের মধ্যে ঢুকে কীভাবে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই স্মৃতি মনে করলে এখনও গা শিউরে ওঠে বলে জানিয়েছেন আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। ছাত্রদলের হাত ধরে নিজের রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির লড়াইয়ের শিক্ষা পেয়েছেন এই সংগঠন থেকেই। কোটা আন্দোলনের সূচনা, আন্দোলন সংগঠিত করার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠার পেছনের ঘটনাও তুলে ধরেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা, বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়া, হামলার শিকার হওয়া এবং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিজের ভূমিকার স্মৃতিচারণা করেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা, বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়া, হামলার শিকার হওয়া এবং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিজের ভূমিকার স্মৃতিচারণা করেন।

স্ট্যাটাসে তারেক রহমান লেখেন, ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। ওই সময় রানীর দিঘীর পাড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগের শহর শাখার নেতাকর্মীরা তাঁর গলায় এন্টিকাটার ধরেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, ২০১৩ সালে কোটা আন্দোলনে অংশ নিতে একটি দল নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। সে সময় চারুকলার সামনে তাঁদের ওপর হামলা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় যুক্ত হন।

২০১৩ সালের কোটা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায় বলে জানান তারেক রহমান। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০১৭ সালে আবারও কোটা আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগও তিনি নিজেই নিয়েছিলেন।

আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তারেক রহমান লেখেন, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন শুরুর আগে তিনি পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের টেবিলে টেবিলে হাতে লেখা লিফলেট রেখে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। শিক্ষার্থীদের বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করতে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, এ কাজে কনফিডেন্স ও ওরাকল সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিল। বিশেষ করে কনফিডেন্সের শিক্ষক সানোয়ার স্যারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে এসব সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি বলেন, সে সময় তিনি কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে কোটা আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতি থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন। আন্দোলন সংগঠিত করা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি—সব ক্ষেত্রেই আগের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ তিনি নিজেসহ ৫৪ জন আটক হন। আটকের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোদ্ধা মোশারফ হোসাইনকে ফোন করেন তিনি। পরে ছাত্রদলের সহযোদ্ধা কামরুলের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। তাঁদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমানের দাবি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই অবরোধ ছিল কোটা আন্দোলনে রাজপথের প্রথম প্রতিরোধ। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তানভীর, হানিফ ও তরিকুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তারেক রহমান লেখেন, ‘আমার গা শিউরে উঠে কুবিয়ান হয়ে, ঢাবিতে ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে কিভাবে এই আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। দীন মোহাম্মদ ভাই, ভিপি নুর ভাই, রাশেদ খান ভাই, মামুন ভাই, ফারুক হাসান ভাই, সোহরাব হোসেন ভাইয়েরা এসে আমার সাথে যুক্ত হলেন, সবাই মিলে অসাধারণ এক লড়াইয়ের অধ্যায় ছিল।’

স্ট্যাটাসে তারেক রহমান আরও জানান, সময়ের প্রেক্ষাপটে ছাত্র অধিকার পরিষদ গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে যুব অধিকার, গণঅধিকার ও প্রবাসী অধিকার পরিষদও গড়ে ওঠে। তবে বিভিন্ন বিষয়ে বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে একপর্যায়ে তাঁরা আলাদা হয়ে যান।

এরপর মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের উদ্যোগে গঠিত আমজনতা দলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো তিনি মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের কাছ থেকেই শিখেছেন বলে উল্লেখ করেন।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়ে সবশেষে তারেক রহমান বলেন, ‘তবে জাতীয়তাবাদের এই লড়াইয়ের শিক্ষা ছাত্রদল হতেই পেয়েছি, স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, গণতন্ত্রের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শই আমার শিকড় ছিল। এমনকি, ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পণ্য বর্জন আন্দোলন, ১ দফার যুগপৎ আন্দোলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, পরামর্শেই কাজ করেছি।’

আরও পড়ুন