বৃহস্পতিবার ৭ মে, ২০২৬

কুমিল্লা নগরীতে ফ্ল্যাট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - University student's body recovered from flat in Comilla city
কুমিল্লা নগরীতে ফ্ল্যাট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতের দিকে নগরীর মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি ভবনের একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফারিহা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ মিয়ার মেয়ে। তিনি কোটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে পারিবারিকভাবে ফারিহার সঙ্গে মেহেদী হাসান হৃদয় (৩০)-এর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর হৃদয় বৃত্তি নিয়ে চীনে গেলেও পরে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকেই বেকারত্ব ও সংসার পরিচালনা নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

গত সোমবার (৪ মে) ফারিহা তার বাবার বাড়ি নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লায় স্বামীর বাসায় আসেন। এর একদিন পরই তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এদিকে বুধবার (৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারিহার মরদেহ উদ্ধারের একটি ছবি ভাইরাল হলে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, বিছানার ওপর একটি চেয়ার রাখা, এক পা বিছানায় বাঁকা অবস্থায় এবং অপর পায়ের হাঁটু চেয়ারের মধ্যে আটকে রয়েছে। এমন অস্বাভাবিক অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ দেখে অনেকেই এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ।

ফারিহার পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। ঘটনার পর থেকেই স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয় পলাতক রয়েছেন।

নিহতের বাবা মো. হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, “মেয়েটাকে বিয়ে দিয়ে কোনো সুখ পেলাম না। তাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। হত্যা করে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযুক্ত স্বামী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

অন্যদিকে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন