বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লার সাজা পাওয়া সেই সাবেক বিচারকের আপিলের রায় পেছালো

রাইজিং ডেস্ক

Supreme Court of Bangladesh
বাংলাদেশ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

আদালত অবমাননার দায়ে হাইকোর্টে ৩০ দিনের বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সোহেল রানার আপিলের রায় পিছিয়ে আগামী ২৩ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে মো. সোহেল রানার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও শাহ মনজুরুল হক।

এরআগে গত ৬ ডিসেম্বর আদালত অবমাননার দায়ে মো. সোহেল রানার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

এর আগের দিন ৫ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাকে ক্ষমা করে সাজা থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন ভালো বিচারক হওয়ার সুযোগ চান।

বিচারকের আদালত অবমাননার প্রেক্ষাপট

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামুন চৌধুরী ও রিয়া আক্তার দম্পতির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলাটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে তারা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন।

এ স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লার তৎকালীন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা গত ১০ এপ্রিল মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিচার কাজ পরিচালনার বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামুন।

গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট সোহেল রানাকে তলব করে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গত ২১ আগস্ট হাজির হতে বলেন। ধার্য তারিখে সোহেল রানা হাইকোর্টে হাজির হন এবং পরে জবাব দাখিল করেন। দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২৮ আগস্ট সোহেল রানার প্রতি স্বপ্রণোদিত আদালত অবমাননার রুল দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়।

আদালত অবমাননার রুলের পর গত ৩১ আগস্ট সোহেল রানা মামলাটির অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত।

আদালত অবমাননার রুলের পরিপ্রেক্ষিতে সোহেল রানা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তার ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ না করে হাইকোর্ট কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আদেশে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

একইসঙ্গে এ বিচারককে সাত দিনের মধ্যে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে এ আদেশের পরে একইদিন ওই বিচারক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্ট তাকে আপিলের শর্তে ৩০ দিনের জামিন দিয়েছেন।

এরপর ওইদিন বিকেলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সোহেল রানা। এ আবেদনের পর চেম্বার কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ধার্য করেন।

আরও পড়ুন