শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬

কুমিল্লার এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান, অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

কুমিল্লার এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান, অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩
কুমিল্লার এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান, অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

কুমিল্লা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট সংবলিত সিমকার্ড, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা ডিবির সহযোগিতায় কুমিল্লা সদর এলাকার এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

অভিযানে ৬ হাজার ৬০০টি এমএফএস (বিকাশ ও নগদ) অ্যাকাউন্ট সংবলিত সিমকার্ড, ৬৭টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম, একটি ল্যাপটপ, ৭০টির বেশি মোবাইল ডিভাইস এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে বলে জানায় ডিবি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ পরিচালনায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে পরে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানো হতো।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার চক্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে আরিফুল ইসলাম রিফাতের নাম উঠে এসেছে। তার ব্যবহৃত ডিভাইস বিশ্লেষণে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগেও চারটি মামলা রয়েছে বলে জানায় ডিবি।

ডিবির দাবি, বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। এই অর্থের বড় একটি অংশ বিভিন্ন পেমেন্ট কোম্পানি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির বিদেশি নিয়ন্ত্রক হিসেবে একজন চীনা নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আরও পড়ুন