
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ৫১৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মেলায় ঘোড়ার হাট জমে উঠেছে। উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এ মেলা বসে।
দোলপূর্ণিমার দিন থেকে মেলাটি শুরু হয়ে চলে মাসব্যাপী। মেলায় সব ধরনের সামগ্রী পাওয়া গেলেও এর মূল আকর্ষণ ঘোড়া। এছাড়া ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।
জানা গেছে, প্রতিবছর দোলপূর্ণিমার দিন থেকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা বসে। এই মেলার মূল আকর্ষণ ঘোড়া। লোকমতে ৫১৬ বছরের পুরানো এই মেলা শুরু থেকেই ঘোড়ার জন্যই প্রসিদ্ধ ছিল। আগে মেলায় ভুটান, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসতো।
স্থানীয়রা জানায়, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘোড়া ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন এখানে ঘোড়া কেনা-বেচা করতে।
এবার এ মেলায় বাহাদুর, মহারাজা, রানি, সুইটি, সোনার চাঁদ, সোনার তরীসহ হরেক রকম নামের ঘোড়া এসেছে। এখানে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৯ লাখ টাকার পর্যন্ত ঘোড়া রয়েছে। ক্রেতারা দেখেশুনে পছন্দ মত কিনছেন ঘোড়া।
অন্যদিকে খোলা একটি মাঠে প্রতিদিন বিকেলে চলে ঘোড়ার দৌড়। মূলত ঘোড়ার খিপ্রতা পরীক্ষা করার জন্য এই প্রতিযোগীতা। যা উপভোগ করতে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
আয়োজকরা বলছেন, দেশের এক মাত্র ঘোড়া বেচাকেনার হাট এটি। এ কারণে সারাদেশ থেকে আনা কয়েক হাজার ঘোড়া জড়ো করা হয় এখানে। এটিকে ঘোড়ার মিলনমেলা বললেও অত্যুক্তি হবে না।
ক্রেতা বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথ মেলার ঘোড়ার হাট। দরদাম ঠিকঠাকের পর একটি খেলার মাঠে ঘোড়া নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্রেতাকে দেখানো হয় ঘোড়ার দৌড়।
এ বিষয়ে নওগাঁ থেকে আসা মোস্তাকিম নামে এক ঘোড়া বিক্রেতা বলেন, আগে আমার চাচা এ মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসতো। এখন চাচার সাথে আমিও আসি। আমার এখানে ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকা দামের বিভিন্ন ঘোড়া আছে।
দোলপূর্ণিমা মেলা কমিটি আয়োজকরা জানান, ৫০০ বছরের পুরনো এ মেলা শুরু থেকেই ঘোড়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরও মেলায় নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসত। বর্তমানে সেসব এখন স্মৃতির পাতায় হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘোড় সওয়ারি ও ঘোড়া মালিকরা এ মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসেন।










