বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ: যে ১২ নির্দেশনা নিয়ে খুলল দ্বীপ

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ/ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ শনিবার (১ নভেম্বর) প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ১২টি নির্দেশনা মেনেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে, প্রথম দিনেই পর্যটকশূন্য থাকছে দেশের অন্যতম এই পর্যটনকেন্দ্র। এর প্রধান কারণ হলো, জাহাজ মালিকরা এই মুহূর্তে পর্যটক বহনে রাজি নন এবং কঠোর ভ্রমণ নির্দেশিকা, বিশেষ করে ‘দিনে গিয়ে দিনে ফেরা’র শর্ত নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকদের কেবল দিনে গিয়ে দিনে ফেরার শর্তে দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ থাকবে। গত বছরের মতো এবারও দ্বীপটি ভ্রমণে পর্যটকদের মানতে হবে সরকারের ১২টি নির্দেশনা। আর এতেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া দ্বীপে উঠতে ব্যবহৃত একমাত্র জেটিঘাটের সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় পর্যটকবাহী জাহাজ ঘাটে ভিড়তে পারার কোনো সুযোগ নেই।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বার-আউলিয়া’ নামের দুটি জাহাজ সেন্টমার্টিনে চলার কথা ছিল। তবে জাহাজ মালিকরা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় শনিবার কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছাড়বে না।

বাহাদুরের মতে, যদি কোনো জাহাজ সকাল ৭টায় কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকে ছাড়ে, সেটি দ্বীপে পৌঁছায় প্রায় দুপুর ২টার দিকে। আমাদের জাহাজগুলোর প্রায় সাত ঘণ্টা লাগে, কিন্তু অন্যদের লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা। একইদিনে যাওয়া-আসা প্রায় অসম্ভব। আর এটি বাস্তবসম্মতও নয়। এর ওপর আবার পর্যটকদের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যার এখনও খোলেনি। দিনে গিয়ে দিনে ফেরার সিদ্ধান্তে পর্যটকও পাওয়া যাবে না। এজন্য ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ যাত্রা করবে না। তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে জাহাজ চালানোর প্রস্তুতি চলছে।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির আহ্বায়ক আবদুর রহমান বলেন, দ্বীপে পর্যটন সেবায় ছোট-বড় আড়াই শতাধিক হোটেল-রেস্টহাউজ রয়েছে। গত বছর দেখেছি, কক্সবাজার থেকে ৮ ঘণ্টা যাত্রা করে দ্বীপের আবাসনে রেস্ট নিতে কোনো পর্যটক আসে না। তাই এবার আমাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। হয়তো পরের দুই মাসে আমরা হোটেল-মোটেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ করতে পারি। তখন স্বল্প পর্যটক হলেও রাত্রী যাপন করবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেন্টমার্টিন যাতায়াতে কোনো জাহাজ অনুমতি নেয়নি। সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২ নির্দেশনা অতীতের মতো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে টেকনাফের পরিবর্তে কক্সবাজার শহর থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের প্রধান ১২টি নির্দেশনা (পর্যটকদের জন্য আবশ্যিক)

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ২২ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তার মূল নির্দেশনাগুলো হলো:

নির্দেশনা ক্ষেত্রবিস্তারিত শর্তাবলী
নৌযান ও টিকিটবিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে।
সময়সূচি ও উপস্থিতিনভেম্বরে পর্যটকেরা কেবল দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন, রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
পর্যটক সংখ্যাপ্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন।
পরিবেশ বিধিনিষেধদ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
যানবাহনসৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
প্লাস্টিক ও বর্জ্যনিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান/শ্যাম্পু, ৫০০/১০০০ মিলি লিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) বহনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন