বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ-দখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

RisingCumilla -Asaduzzaman
ছবি: সংগৃহীত

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতেই রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তন কার্যকর হলে সম্পত্তি বণ্টন ও হিসাব-নিকাশসংক্রান্ত দেওয়ানি (সিভিল) মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বর্তমানে আদালতে দায়ের হওয়া অনেক মামলাই সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, মুসলিম আইনে হেবা, হিন্দু আইনে উইল এবং মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামার বিধান রয়েছে। তবে বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থায় বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি হেবা করে দিলে সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পত্তির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ শেষ হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তারা সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় সন্তানরা বাবা-মায়ের যথাযথ দেখভাল না করলে তারা অসহায় অবস্থায় পড়েন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার বিকল্প আইনি ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-এ বিদ্যমান গিফট সংক্রান্ত ধারার সঙ্গে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ (জীবনস্বত্ব) যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে এই বিধান অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-দখলের অধিকার নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন।

এ ছাড়া, বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় উভয় পক্ষের সম্মতি ছাড়া ওই সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ সন্তান এককভাবে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না, আবার বাবা বা মাও একক সিদ্ধান্তে বিক্রি করতে পারবেন না।

তবে বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আইনমন্ত্রী জানান, যদি সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজন মেটানো সম্ভব না হয় এবং সন্তান বিক্রিতে সম্মতি না দেয়, তাহলে জেলা জজের কাছে আবেদন করা যাবে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জেলা জজের থাকবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। যেখানে যেভাবে প্রয়োজন, জনগণের স্বার্থে সেভাবেই পরিবর্তন আনা হবে।”

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আরও জানান, বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা গুম (এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) অভিযোগের বিষয়ে সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে।

আরও পড়ুন