সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

লাখাইয়ের গৌরব ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুল আজিজের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিএম তারেক, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Today marks the seventh death anniversary of Abdul Aziz, a source of pride for Lakhai and an exemplary teacher.
লাখাইয়ের গৌরব ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুল আজিজের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার কৃতি সন্তান, জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো: আব্দুল আজিজের আজ সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণ দিবসে লাখাইয়ের সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা, স্মৃতিচারণ ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করছে।

​মরহুম মো: আব্দুল আজিজ লাখাই উপজেলার জিরুন্ডা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, তাঁর পিতা মরহুম মাহমুদুজ্জামান। কর্মজীবনে তিনি ভাদিকারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নিবেদিত প্রাণ পরিচালনা ও সুদূরপ্রসারী শিক্ষাদান পদ্ধতির সুবাদে বিদ্যালয়টি সমগ্র এলাকায় সুশিক্ষা বিস্তারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

​শিক্ষকতা পেশায় তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৮ সালে প্রথম হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একই বছরের ১৮ থেকে ২১ এপ্রিল ময়মনসিংহস্থ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে (ন্যাপ) অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় তিনি স্বকীয় মেধার স্বাক্ষর রাখেন। সারা দেশের ৬৪টি জেলা ও রাজধানীসহ মোট ৬৫ জন প্রতিযোগীর মধ্যে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করেন। তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক, দশ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র তুলে দেন।

​জীবনের সংগ্রাম ও আদর্শের দিক থেকে তিনি ছিলেন অনুকরণীয় এক ব্যক্তিত্ব। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পথ চললেও শিক্ষার প্রতি তাঁর অদম্য অনুরাগ ও নিষ্ঠা কখনোই কমে যায়নি। নিজের জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট ও প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি সারাজীবন অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুশিক্ষায় আলোকিত করার মহৎ ব্রতে নিয়োজিত ছিলেন।

​জাতীয় পর্যায়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মৃতিচারণ করেছিলেন। উচ্চশিক্ষিত ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বহু প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি কেবল নিজ মেধা, প্রজ্ঞা ও পেশাগত যোগ্যতাবলে সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান লাভ করেন। তৎকালীন মৌখিক বোর্ডে উপস্থিত শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপকগণ তাঁর সুগভীর জ্ঞান ও প্রাঞ্জল শিক্ষাদান পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

​সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পরও তিনি ঘরে বসে থাকেননি। হবিগঞ্জ জেলা ন্যাপের সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়ে সামাজিক উন্নয়ন, সমাজসেবা ও প্রগতিশীল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আজীবন সৎ, নীতিবান ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে তিনি সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কুড়িয়েছেন।

​আজ তাঁর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে লাখাইবাসী তাঁদের এই প্রিয় অভিভাবক ও শিক্ষাব্রতী কৃতি সন্তানকে অশ্রুসজল নয়নে ও অসীম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।

আরও পড়ুন