
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মৃত্যুর এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন ইউনিয়নবাসী।
চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন গত ১৪ আগস্ট মারা যান। এরপর থেকে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রশাসক নিয়োগ না হওয়ায় পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও এ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিষদের সাবেক তিন প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তারের কেউই বর্তমানে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউপি সদস্য জানান, চেয়ারম্যানের পদ এক মাস ধরে শূন্য থাকায় ইউনিয়ন পরিষদে এসে বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারীসহ একটি বৈঠকে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, পরিষদের অন্য সদস্যরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’। তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।
চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারী বলেন, ‘একটি বৈঠকে হান্নানকে অন্যরা সমর্থন দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।’
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘প্রশাসক নিয়োগ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন জেলা প্রশাসক দেবেন। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।’
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ এবং প্যানেল চেয়ারম্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








