শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬

“ভোটটা যেন পারফেক্ট হয়—এটাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ”: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - The main challenge now is to make the vote perfect-Chief Advisor
“ভোটটা যেন পারফেক্ট হয়—এটাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ”: প্রধান উপদেষ্টা/ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। তিনি জানান, কোথাও কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছে না, কোনো অভদ্র আচরণও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটিকে তিনি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন প্রস্তুতির সব পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সন্তুষ্ট, উই আর ভেরি হ্যাপি।” তবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—ভোট গ্রহণ পর্বকে নিখুঁত করা। তার ভাষায়, “টু মেক ইট পারফেক্ট—ভোটটা যাতে পারফেক্ট হয়, সেটাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের কাছে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সামনে আসা এক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোট হবে উৎসবমুখর। নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন, মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে ভোট উৎসবে অংশ নেবে। তার প্রত্যাশা, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে পুলিশকে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হচ্ছে। বৈঠকের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা র‌্যান্ডমভাবে পাঁচটি জায়গায় বডি ক্যামেরা বহনকারী দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করেন।

তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে। এই অ্যাপটি শুধু নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে বা কেন্দ্রের বাইরে গোলযোগ কিংবা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে, অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে।

প্রেস সচিব বলেন, এর আগে দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের একটি অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। সে সময় দেশের ৩২ হাজার পূজামণ্ডপকে এই অ্যাপের আওতায় আনা হয়। অ্যাপটি পরীক্ষিত এবং তখন অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন