সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

ব্যক্তিকেন্দ্রীক করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার দাবি

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Demand to increase the tax-free income limit for individuals to Tk 5 lakh
ব্যক্তিকেন্দ্রীক করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার দাবি/ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিকেন্দ্রিক করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির সমপর্যায়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং করপোরেট কর রিটার্ন পুরোপুরি অটোমেটেড করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। ডিসিসিআই, চ্যানেল-২৪ ও দৈনিক সমকাল যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া জিইডির সদস্য মনজুর হোসেন, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ ও রিজওয়ান রাহমান, আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট মো. কাওসার আলম, আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন, ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ইউসিবি চেয়ারম্যান শরীফ জহীরসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, কর ব্যবস্থাকে সহজ ও কার্যকর করতে ই-ট্যাক্স ও ইটিডিএস প্ল্যাটফর্ম সমন্বয়ের মাধ্যমে পিএসআর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা প্রয়োজন। আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর উৎপাদনকারীদের জন্য ধাপে ধাপে বিলুপ্ত এবং বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য হ্রাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে অনলাইন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ চালু, অগ্রিম ভ্যাট পুরোপুরি বাতিল এবং চূড়ান্ত মূল্য ভিত্তিক ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দ্রুত ভ্যাট রিফান্ডের জন্য সিঙ্গেল-স্টেপ পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিসিসিআই বলছে, স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সুদহার যৌক্তিক করা এবং সরকারি ঋণে ব্যাংকনির্ভরতা কমানো জরুরি। উৎপাদনশীল খাতে পুনঃঅর্থায়ন, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু এবং আর্থিক খাতে করপোরেট গভর্নেন্স জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিল্প খাতে চামড়া শিল্পে সিইটিপি স্থাপন, কৃষিপণ্যে কোল্ড চেইন উন্নয়ন, এবং এলডিসি উত্তরণের আগে ফার্মাসিউটিক্যাল, আইসিটি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিশেষ প্রণোদনার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন এবং সিএমএসএমই খাতে স্বল্পসুদে অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতিতে শুল্ক-ভ্যাট ছাড় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড ও সুকুক চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তির সুপারিশও করা হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়াতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং, ডেটা সুরক্ষায় হাই-সিকিউরিটি ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং উৎপাদনশীল খাতে ইএসজি বাস্তবায়নে বাজেট সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ডিসিসিআই।

আরও পড়ুন