
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বুয়েট শিক্ষার্থী সৈয়দ শাদিদ নাসিফকে দেখতে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার দুই বিশেষ সহকারী শেখ মইনুদ্দিন ও ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা সরকারের পক্ষ থেকে শাদিদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং যেকোনো ধরনের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় তারা বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগের ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুয়েটের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাদিদ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসাধীন। প্রতিনিধিরা যখন তাকে দেখতে যান, তখন তার বাবা, মা, বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিদের সামনে শাদিদের মা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ওপর যেন কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করা না হয়, সেই নিশ্চয়তা চান। জবাবে প্রতিনিধিরা দুঃখ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের ডিএমপি প্রধানের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
শাদিদের বাবা রংপুরের একটি কলেজের শিক্ষক এবং বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শাদিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা হয় এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়। দুই বিশেষ সহকারী শাদিদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তাসহ প্রয়োজনে উন্নততর চিকিৎসার আশ্বাস দেন।
এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শাদিদের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সে এখন স্থিতিশীল আছে। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন শাদিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চম দিনের পর সেলাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হবে কিনা, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ও প্রকৌশলীদের চাকরির অসন্তোষ সমাধানে গঠিত কমিটির প্রধান এম ফাওজুল কবির খানের পক্ষ থেকে শাদিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি, সাপোর্ট স্টাফ, নার্স ও চিকিৎসকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এরপর প্রতিনিধিরা শাদিদের বুয়েট-২০ ব্যাচের কয়েকজন সহপাঠী এবং প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সংগঠকদের সাথে কথা বলেন। এই আলোচনায় সবাই শাদিদের পরিবারের পাশে থাকার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এ সময় শাদিদের সহপাঠীরা স্নাতক প্রকৌশলীদের দাবিসমূহের একটি যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ব্যাপারে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।