
দেশের সড়কগুলোতে যেন মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে সারা দেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২২১ জন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জনের মৃত্যু হলেও মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে।
মার্চ মাসে নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এ সময়ে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী মিলিয়ে ২০৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া বাসের যাত্রী ৪৫ জন, তিন চাকার যানবাহনের (ইজিবাইক, সিএনজি, লেগুনা) যাত্রী ৯৪ জন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির (প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস) আরোহী ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সর্বাধিক—২৪৪টি।
শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (২৬৪টি) এবং জাতীয় মহাসড়কে (১৭১টি)। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৩১টি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এছাড়া যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকদের অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং বেপরোয়া মানসিকতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।








