বুধবার ২০ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ-মরক্কো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বাণিজ্যের ঘাটতি কমানোর তাগিদ

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Bangladesh-Morocco discuss free trade agreement, urge to reduce trade deficit
বাংলাদেশ-মরক্কো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বাণিজ্যের ঘাটতি কমানোর তাগিদ/ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও মরক্কো।

মঙ্গলবার (১৯ মে) মরক্কোর রাজধানী রাবাতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এর আগে তিনি মরক্কোর পররাষ্ট্র, আফ্রিকান সহযোগিতা ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী নাসের বোরিতার সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ ছাড়াও বুধবার ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তি রক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নত বিনিয়োগ পরিবেশের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে প্রতিনিধি দল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। মরক্কোর বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তার দেশ বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহী।

পক্ষান্তরে কৃষি খাতে বিদ্যমান অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে মরক্কো থেকে ফসফেট আমদানির সরবরাহ চেইন আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় উভয় দেশই উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে উচ্চপর্যায়ের সফরের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

শামা ওবায়েদ ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক মরক্কো সফরের কথা স্মরণ করেন এবং রাবাতে একটি সড়কের নামকরণ তার নামে করার জন্য মরক্কো সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

জানা গেছে, বৈঠক চলাকালীন বাণিজ্য, বিনিয়োগ, টেক্সটাইল, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ। এ সময় তারা বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে সমন্বিত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও একমত হন। এ ছাড়াও চলমান সহযোগিতা মূল্যায়ন ও নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে ঢাকায় দ্রুত পরবর্তী ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনে সম্মত হন উভয় পক্ষ। এসবের পাশাপাশি মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শামা ওবায়েদ।

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেকুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডসহ খাল খনন প্রকল্পের মতো উন্নয়ন উদ্যোগগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন। তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১৫ কোটি ডলার। তবে এই বাণিজ্য মরক্কোর অনুকূলে প্রবলভাবে ঝুঁকে আছে। বাংলাদেশ মরক্কোতে মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, বিপরীতে আমদানি করে ১০৭ কোটি ডলারের পণ্য। প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন