বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেনীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি, ১০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে আক্রান্ত

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল/ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে এবার জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বর্তমানে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে ফেনীতে ১৪৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ৯ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী পৌরসভা সময়মতো কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি গ্রহণ না করায় শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ডাক্তারপাড়া ও পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় তুলনামূলক বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলা বলেন, নিয়মিত ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই।

তিনি বলেন, কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর একই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী থাকলে মশার মাধ্যমে ওই এলাকার অন্যরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

এদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দ্রুত কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি গ্রহণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

আরও পড়ুন