সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা: লুটের টাকায় টিভি ও ফ্রিজ কেনেন নাইম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা: লুটের টাকায় টিভি ও ফ্রিজ কেনেন নাইম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার/ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ভবনসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রাকিব হোসেন ও মো. নাইম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন—এমন তথ্য ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন, তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছেন। এই টাকা দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কেনেন। অভিযানে ওই টিভি ও ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় নাইমের কাছ থেকে লুট করা ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে তিনি কোন ভবন থেকে এই অর্থ লুট করেছেন—সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

শেরপুর জেলার বাসিন্দা রাকিব হোসেনকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করা হয়। পাশাপাশি তাঁর আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্টও দেওয়া হয়েছিল বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা, মো. শফিকুল ইসলাম।

ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকার একাধিক থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যেও তিনজনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।

এদের মধ্যে গ্রেপ্তার কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে বাকি দুইজনের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ভবন ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তোপখানায় উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন