
ডিম বাঙালির খাদ্যতালিকার অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজলভ্য খাবার। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় একে অনেকেই ‘সাধ্যের মধ্যে সেরা খাবার’ বলে থাকেন। সহজে পাওয়া যায়, রান্না করাও ঝামেলাহীন—এই দুই কারণেই শিশু থেকে বয়স্ক, প্রায় সব বয়সী মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ডিম। কেউ সকালে নাশতায়, কেউ আবার রাতে ঘুমানোর আগে ডিম খেতে পছন্দ করেন।
তবে ডিম নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অনেকের ধারণা, বেশি ডিম খেলে শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার কেউ শুধু ডিমের সাদা অংশ খান, কেউ কুসুম এড়িয়ে চলেন। তাহলে আসলে ডিম কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, নাকি ক্ষতিকর? এতে থাকা কোলেস্টেরল ও প্রোটিন শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলে? প্রতিদিন বা নিয়মিত ডিম খাওয়া কতটা নিরাপদ? এসব প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম মায়োক্লিনিক হেল্থ সিস্টেম-এর এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি সাধারণ ডিমে প্রায় ৭৫ ক্যালোরি, ৫ গ্রাম চর্বি, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৬৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৭০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ২১০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল এবং শূন্য গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। এছাড়া ডিম ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২ এবং কোলিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের বিপাকক্রিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
ডিমের কোলেস্টেরল নিয়ে কী বলছে গবেষণা?
গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য খাদ্য উৎসের তুলনায় ডিমে থাকা কোলেস্টেরল অধিকাংশ মানুষের শরীরে তেমন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের চেয়ে বরং সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ডিমের সঙ্গে খাওয়া অন্যান্য খাবার। যেমন—বেকন, পনির ও মাখনের মতো খাবারে লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডিম সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবার—সব সময়ের জন্যই একটি পুষ্টিকর খাদ্য। মায়োক্লিনিক হেল্থ সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ মানুষ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই সপ্তাহে সাতটি পর্যন্ত ডিম খেতে পারেন। তবে যারা কোলেস্টেরল কমাতে চান, তারা চাইলে কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে কোলেস্টেরল কমলেও প্রয়োজনীয় প্রোটিনের একটি ভালো অংশ পাওয়া যায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ডিমের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ডিম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। তবে ডিম রান্নার সময় অতিরিক্ত পনির, বেকন, মাখন বা অন্যান্য উচ্চ ক্যালোরি ও উচ্চ চর্বিযুক্ত উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসব উপাদান ডিমের পুষ্টিগুণের সুফল কমিয়ে দিয়ে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অমলেট, সেদ্ধ ডিম, এগ বেক কিংবা টোস্ট—যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, ডিমের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর উপকরণ ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। এভাবে প্রস্তুত করা ডিম শরীরের জন্য উপকারী হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে।
দিনের যেকোনো খাবারে ডিম
দিনের যেকোনো বেলার খাবারেই ডিম রাখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাশতা বা রাতের খাবারের জন্য ডিমের পদ আগেই তৈরি করে রাখা যেতে পারে। ফ্রিজ থেকে বের করার পর ওভেন গরম হওয়া পর্যন্ত ক্যাসেরোলটি কিছু সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া উচিত। এরপর তা তাজা ফলমূল বা সবুজ সালাদের সঙ্গে পরিবেশন করলে খাবারটি আরও স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।










