রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

কেন আসে দাম্পত্যের ক্লান্তি? অজান্তেই করছেন এই ৫ ভুল

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla - marital fatigue occur
প্রতীকি ছবি: এআই/রাইজিং কুমিল্লা

বিয়ের ৫, ১০, ২০ কিংবা ৩০ বছর—সংসার চলছে, সন্তান আছে, দায়িত্ব আছে, একসঙ্গে পথচলাও আছে। বাইরে থেকে দেখলে অনেক দম্পতিকেই আদর্শ মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক সম্পর্কেই ধীরে ধীরে কমে আসে আন্তরিকতা, বাড়তে থাকে দূরত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেক সময় ‘দাম্পত্যের ক্লান্তি’ হিসেবে পরিচিত। এখানে বড় কোনো সংকট, বিশ্বাসঘাতকতা বা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নাও থাকতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্ক থেকে হারিয়ে যেতে থাকে উষ্ণতা, বোঝাপড়া ও আবেগের সংযোগ।

কেন আসে দাম্পত্যের ক্লান্তি?

কথা কমে যাওয়া

অনেক দম্পতি ঝগড়া এড়াতে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেন। একসময় সংসারের প্রয়োজনীয় আলাপ চললেও অনুভূতি, স্বপ্ন কিংবা ব্যক্তিগত ভাবনা ভাগাভাগি করার জায়গা হারিয়ে যায়। ফলে সম্পর্কের গভীরতা কমতে থাকে।

ছোট বিষয় নিয়ে বাড়তি বিরক্তি

সামান্য ভুল, ভুলে যাওয়া কোনো কাজ কিংবা দৈনন্দিন অভ্যাসও বড় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল সমস্যা ঘটনাগুলো নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষই এসব ছোট বিষয়কে বড় করে তোলে।

পুরোনো কষ্ট বারবার সামনে আনা

অতীতের ভুল বা কষ্ট যদি প্রতিটি তর্ক-বিতর্কে নতুন করে সামনে আসে, তাহলে সম্পর্কের ক্ষত আরও গভীর হয়। এতে বর্তমান সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং অতীতের ব্যথাও নতুন করে জেগে ওঠে।

সঙ্গীকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা

অনেকেই মনে করেন, সঙ্গী যদি কিছুটা বদলে যান, তাহলে সম্পর্ক আরও ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কেউ নিজে পরিবর্তন না চাইলে তাকে জোর করে বদলানো সম্ভব নয়। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও গ্রহণযোগ্যতাই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।

চাপা ক্ষোভ জমতে থাকা

বাইরে থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে জমে থাকতে পারে অভিমান, কষ্ট কিংবা অপমানের অনুভূতি। এসব অনুভূতি প্রকাশ না পেলে একসময় ছোট ঘটনাও বড় বিরোধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কীভাবে দূর হতে পারে এই ক্লান্তি?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দাম্পত্যের ক্লান্তি রাতারাতি তৈরি হয় না, তাই এর সমাধানও তাৎক্ষণিক নয়। তবে নিয়মিত কথোপকথন, একে অপরকে মনোযোগ দিয়ে শোনা, পুরোনো ক্ষতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়া এবং সঙ্গীকে বদলানোর বদলে বোঝার চেষ্টা করা সম্পর্ককে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

তাদের মতে, অনেক সম্পর্ক ভালোবাসার অভাবে ভাঙে না; বরং ভাঙে তখনই, যখন একই ছাদের নিচে থেকেও দুই মানুষ একে অপরের কাছে পৌঁছানোর পথ হারিয়ে ফেলেন।

আরও পড়ুন