
বিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পর্ব ‘উকুফে আরাফা’ পালনে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি হাজি। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর করে তোলেন পবিত্র এই ময়দান।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিলহজ মাসের নবম দিনের সূর্যোদয়ের পর থেকেই হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানায় প্রবেশ করতে থাকেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় সময় অতিবাহিত করবেন।
ইসলামী শরিয়তে উকুফে আরাফাকে হজের মূল ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ মানেই আরাফা।” ফলে এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, আরাফার দিন রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত সুযোগ। বিদায় হজের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণে মানবতা, ন্যায়বিচার, সাম্য এবং জীবন-সম্পদের পবিত্রতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও আরাফার খুতবার মাধ্যমে হাজিদের উদ্দেশে হজের তাৎপর্য ও করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুসরণ করে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানে রয়েছে ঐতিহাসিক জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। সেখানে বহু হাজিকে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকতে দেখা যায়।
এর আগে সোমবার মিনায় ‘তারবিয়ার দিন’ পালন করেন হাজিরা। সেখানে অবস্থান করে তারা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন।
এদিকে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও জরুরি সাড়া ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
মক্কায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাজিদের ছাতা ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছে।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত ত্যাগ করে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় শেষে রাতযাপন করবেন। পরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ ও কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।









