
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে গত আগস্ট মাসে দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ৫০টি মামলা করা হয়েছে। এ সময় ৫৯টি অভিযানের পাশাপাশি ১ হাজার ১৯৮টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযানের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি অভিযানের মাধ্যমে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩১টি মামলা করা হয়।
এ ছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে নয়টি মামলা।
সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে ৫৯টি অভিযানের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ৫০টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩টি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের স্বাস্থ্যসনদও দেওয়া হয়।
এদিকে ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়।
এই সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসী খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই সনদ প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ও রং ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে অননুমোদিত কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়াতেল ব্যবহারের মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা এবং চারটি মামলা করা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ১৩৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে।
মনিটরিংয়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা প্রচারের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক অডিওবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।








